Sinusitis vs Common Cold: সাইনাসের প্রাণান্তকর কষ্ট থেকে মুক্তি পাবেন কোন ঘরোয়া টোটকায়? সাধারণ সর্দিকাশির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়? বলছেন ইএনটি বা নাক কান গলার রোগের বিশেষজ্ঞ ডক্টর তনহা জারিন নাজ ((Otorhinolaryngology), আইএলএস, হাওড়া হাসপাতাল।

সাইনাসাইটিস কী এবং সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়? সাইনাসাইটিস হল প্যারান্যাজাল সাইনাসের মিউকাস আবরণের প্রদাহ। সাধারণ সর্দি-কাশি হল শ্বাসনালীর উপরের অংশের একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তীব্রতা পায় এবং সেরে যায়; অন্যদিকে, সাইনাসাইটিসের ক্ষেত্রে সাইনাসের প্রবেশপথ বা ‘অস্টিয়াম’ (ostial) অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি হতে পারে, যার ফলে প্রায়শই মুখের নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা ও পুঁজযুক্ত নিঃসরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বলছেন আইএলএস, হাওড়া হাসপাতালের ইএনটি বা নাক কান গলার রোগের বিশেষজ্ঞ ডক্টর তনহা জারিন নাজ।

সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী? সংক্রমণের কারণ কী?
এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে পুঁজযুক্ত সর্দি, নাক বন্ধ বা শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা, মুখের নির্দিষ্ট কোনও অংশে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া এবং ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া বা সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়া। অধিকাংশ তীব্র (acute) সংক্রমণের কারণ হল ভাইরাস। এর পরবর্তী পর্যায়ে ব্যাকটেরিয়াজনিত সুপার-ইনফেকশন (যেমন—*S. pneumoniae*, *H. influenzae*) দেখা দিতে পারে। অন্যান্য সুনির্দিষ্ট কারণের মধ্যে রয়েছে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, শারীরিক স্থানগত গঠনগত ভিন্নতা (যেমন—সেপ্টাল ডেভিয়েশন বা কনকা বুলোসা) এবং সাইনোন্যাসাল পলিপোসিস।(AI Image)

ঠান্ডা আবহাওয়া বা ঋতু পরিবর্তন কি সাইনাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে?
হ্যাঁ। ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্সকে ব্যাহত করতে পারে এবং মিউকোসাকে শুষ্ক করে তুলতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের ফলে অ্যালার্জেনও প্রবেশ করে যা মিউকোসাল ইডিমা সৃষ্টি করে, যার ফলে অস্টিওমিটাল কমপ্লেক্সে সেকেন্ডারি অবস্ট্রাকশন ঘটে।(AI Image)

সাইনাসাইটিস কি নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে? উপশমের ঘরোয়া টোটকা কী কী?
হ্যাঁ। কোনও জটিলতা ছাড়া তীব্র ভাইরাল রাইনোসাইনাসাইটিস সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজের থেকেই সেরে যায়। বেশি স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, বাষ্প গ্রহণ, আক্রান্ত সাইনাসের উপর গরম সেঁক, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ব্যথানাশক ঔষধ উপসর্গ উপশমে অত্যন্ত কার্যকর।

কীভাবে সাইনাসাইটিস প্রতিরোধ করা যায়?
হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা (যেমন—নাকের ভেতর ব্যবহারের উপযোগী কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করে), তামাকের ধোঁয়ার মতো শ্লেষ্মা ঝিল্লির (মিউকোসা) জন্য বিরক্তিকর বা ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে চলা এবং ভাইরাস ও নিউমোকক্কাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে সময়মতো টিকা নেওয়া সাহায্য করে উপশমে।

সাইনাসাইটিসের জন্য কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
যদি ১০ দিনের বেশি সময় ধরে কোনও উন্নতি ছাড়াই উপসর্গগুলো বজায় থাকে, ‘ডাবল সিকেনিং’ বা দ্বৈত অসুস্থতার ধরন দেখা দেয় (অর্থাৎ প্রাথমিক উন্নতির পর অবস্থার অবনতি হওয়া), কিংবা কোনও গুরুতর সতর্কবার্তা বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ লক্ষণ (যেমন—চোখের চারপাশে ফোলাভাব, মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তন) দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

দীর্ঘস্থায়ী সাইনাসাইটিসের ক্ষেত্রে কি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে?
হ্যাঁ। যখন দীর্ঘস্থায়ী রাইনোসাইনুসাইটিস (যার লক্ষণগুলো ১২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে) সর্বোচ্চ মাত্রার চিকিৎসাতেও নিরাময় হয় না, তখন সাইনাসের স্বাভাবিক ছিদ্রপথ (ostia) খুলে দেওয়া এবং বাতাস চলাচল ও নিঃসরণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘ফাংশনাল এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি’ (FESS)-এর প্রয়োজন হয়।