Lower Belly Fat Causes: উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপে তলপেটে জমছে বিশ্রী মেদের স্তর! খাওয়াদাওয়া নয়…ভুঁড়ি বাড়ছে স্ট্রেস হরমোনের জেরে

High Cortisol & Lower Belly Fat: দীর্ঘস্থায়ীভাবে উচ্চ কর্টিসলের মাত্রা পেটের চারপাশে চর্বি জমাকে বাড়িয়ে তোলে। যদিও পেটের নীচের অংশের নির্দিষ্ট কোনও জায়গার মেদ কমানো সম্ভব নয়। “কর্টিসল বেলি” একটি বহুল প্রচলিত পরিভাষা যা মূলত পেটের চারপাশে ওজন বৃদ্ধিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও একে “হরমোনাল বেলি”ও বলা হয়। এটি কোনো ডাক্তারি পরিভাষা বা রোগনির্ণয় নয়, তবে এটি আপনার শরীরে ঘটে চলা অন্য কোনো কিছুর লক্ষণ হতে পারে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো ঘুম এবং ব্যায়াম করা সত্ত্বেও পেটের বিশ্রী মেদ কমছেই না? এর কারণ হল, শরীরে রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করা বিভিন্ন হরমোনের মধ্যে আপনার স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে পেটে অতিরিক্ত মেদ, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট, জমা হয়। পুষ্টিবিদ মেরিনা রাইট সংবাদমাধ্যমে বলছেন, “ভিসারাল ফ্যাট বা পেটের ভেতরের চর্বি প্রদাহ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং হৃদরোগ-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। সমস্যাটি হল, কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকলে চর্বি কমানো অত্যন্ত কঠিন।”

কর্টিসল হল শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন। দীর্ঘস্থায়ী কর্টিসল শুধু ওজন বৃদ্ধিই ঘটায় না। এটি বিশেষভাবে শরীরকে পেটের চারপাশে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে চর্বি জমা করতে সংকেত দেয়। এই ধরনের চর্বি, যা ভিসারাল ফ্যাট নামে পরিচিত, বিপাকীয়ভাবে বিপজ্জনক। এটি সেই জেদি “কর্টিসল বেলি” তৈরি করে, যা নিয়ে অনেক চাকরিজীবী নিয়মিত ডায়েট বা ব্যায়াম করা সত্ত্বেও ভুগে থাকেন। দীর্ঘ কাজের সময়, কর্মক্ষেত্রের বিষাক্ত পরিবেশ, স্ট্রেস, উদ্বেগ-সহ একাধিক কারণ সরাসরিভাবে কর্টিসলের উল্লেখযোগ্য ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে জড়িত। এখানে আরও একটি চক্র কাজ করছে। কর্টিসল-চালিত আকাঙ্ক্ষা। যখন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক চিনি, চর্বি এবং লবণযুক্ত খাবারের প্রতি আকুল হয়ে ওঠে। ফলে সেই খাবারগুলোও ওজন বাড়ানোর কারিগর। দীর্ঘস্থায়ী কর্টিসলের উচ্চ মাত্রা ঘুমের গুণমানকে ব্যাহত করে, অন্যদিকে অপর্যাপ্ত ঘুম পরের দিন কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কর্টিসল মানবদেহের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন একটি অত্যাবশ্যকীয় হরমোন। গ্লুকোকর্টিকয়েড নামেও পরিচিত এই হরমোনটি বিপাকীয় কার্যকলাপে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে এবং শর্করা, চর্বি ও প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে। এছাড়াও, কর্টিসল কিছু হরমোনের একটি মূল উপাদান, যার মধ্যে যৌন ও বৃদ্ধি সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোও অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে কর্টিসল মানবদেহে অনেক অপরিহার্য কাজ সম্পন্নকারী একটি অত্যাবশ্যকীয় হরমোন। তবে, ক্রমাগত উচ্চ কর্টিসলের মাত্রা এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, যা প্রায়ই চাপের কারণে হয়ে থাকে, তা ওজন নিয়ন্ত্রণ-সহ স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, শিথিলকরণ কৌশল এবং একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস, ওজন কমানোর প্রচেষ্টার উপর কর্টিসলের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।(

উচ্চ কর্টিসল মাত্রা কেন ওজন কমানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তার কয়েকটি কারণ জেনে নেওয়া যাক। পেটে চর্বি জমা: মানবদেহের চর্বি কোষগুলিতে বেশি কর্টিসল রিসেপ্টর থাকে। ফলে, শরীরের অন্য যে কোনও স্থানের তুলনায় পেটের চর্বিতে কর্টিসলের প্রভাব অনেক বেশি হয়। ক্ষুধা বৃদ্ধি: কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করে, যার ফলে আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: কর্টিসলের উচ্চ মাত্রা দীর্ঘস্থায়ীভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা চর্বি জমাকে উৎসাহিত করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি করে। পেশী ক্ষয়: কর্টিসলের কারণে শক্তির জন্য পেশী টিস্যুর ভাঙন বেসাল মেটাবলিক রেট কমিয়ে দিতে পারে। মেটাবলিক রেট এবং পেশী ভরের এই হ্রাসের ফলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। ওজন বৃদ্ধি ছাড়াও, উচ্চ কর্টিসলের আরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানুন। সেগুলি হল উচ্চ রক্তচাপ, মনোযোগ দিতে অসুবিধা, ইনসুলিন প্রতিরোধ, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই যে হরমোনের উত্থান-পতন ঘটে, যা চর্বি জমা এবং তার বণ্টনকে প্রভাবিত করে, তার ফলে এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে যে পেটের চর্বি জীবনযাত্রার চেয়ে হরমোনজনিত কারণেই বেশি হয়। আধুনিক জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলো হরমোনের ভারসাম্যকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে, যা ফলস্বরূপ চর্বি জমা হওয়াকে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে, নির্ধারণ করে। এটি এমন একটি চক্র যা আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা খাবারের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের মধ্যভাগে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ভুঁড়ি কমাতে শুধুই কঠোর ডায়েট প্ল্যানের প্রয়োজন নেই। সেইসঙ্গে দরকার কিছু স্বাস্থ্যকর নিয়মকানুন, ঘুম এবং বিশ্রাম। নয়তো কর্টিসলের মাত্রা কমানো যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *